মঙ্গলবার, ৭ আগস্ট, ২০১৮

সাইবার দুর্বৃত্তরা কৌশল বদলাচ্ছে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা


ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও পেজ তৈরিতে আরও কৌশলী হচ্ছে নির্মাতারা। আগে যেসব বৈশিষ্ট্যের কারণে ফেসবুক ভুয়া পেজ আটকে দিত, সেসব ভুল থেকে শিক্ষা নিচ্ছে। এতে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও পেজ শনাক্ত করা এবং তা নজরদারির মধ্যে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশে প্রচার করা ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ করার মতো বিষয় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানায়, নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উপলক্ষে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও পেজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে ফেসবুক। এর মধ্যে সমন্বিত স্বয়ংক্রিয় আচরণের কারণে ৩২টি ভুয়া পেজ ও অ্যাকাউন্ট বাতিল করেছে তারা।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে ভুয়া পেজ তৈরি ও অনধিকার চর্চা পর্যবেক্ষণ করার ও এর মূল উৎস খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাইবার দুর্বৃত্তরা তাদের কৌশলেও পরিবর্তন এনেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ফরেনসিক রিসার্চ ল্যাবের বিশেষজ্ঞ বেন নিমো বলেন, এখন ফেসবুকে যেসব ভুয়া পেজ তৈরি হচ্ছে, এতে প্রকৃত ভাষা কম ব্যবহার করার বিষয়টি তিনি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এসব পেজে অনলাইনে থাকা বিভিন্ন তথ্য চুরি করে প্রকাশ করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিমো বলেন, আগে ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভাষাগত ভুল দেখে অনেক ভুয়া অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা যেত, কিন্তু এখন তারা কোনো বিষয় পোস্ট করার সময় নিজেরা কম লিখে চুরি করা কনটেন্ট পোস্ট করে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে নকল করে পোস্ট করা কনটেন্ট থাকায় এবং পাইরেসি হওয়ার ফলে এসব কনটেন্ট সন্দেহ তৈরি করে কম।
নতুন করে ভুয়া পেজ বাতিল করা প্রসঙ্গে ফেসবুক বলেছে, এসব পেজে ভুয়া তথ্যের উৎস শনাক্ত করতে পারেনি ফেসবুক। এসব অ্যাকাউন্ট যারা সেট করেছে, তারা সত্যিকার পরিচয় ঢাকতে অনেক গভীর পর্যন্ত গেছে। এর আগে রাশিয়াভিত্তিক ইন্টারনেট রিসার্চ এজেন্সি (আইআরএ) যেভাবে পেজ সেট করেছিল, তার চেয়েও গভীরে গিয়েছিল এসব পেজ নির্মাতার। আইআরএর বিরুদ্ধে মার্কিন নির্বাচনে বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে প্রভাব ফেলার অভিযোগ রয়েছে।
গত মঙ্গলবার ফেসবুক তাদের এক ব্লগ পোস্টে বলেছে, ‘আমাদের কারিগরি দল এসব পেজে পোস্ট করা তথ্যের উৎস ধরতে পারেনি। যেসব পোস্টে ব্যবহারকারীরা ফ্ল্যাগ দেখিয়েছেন, সেগুলো কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের গবেষকেদের দেখানো হয়।’
ভার্চ্যুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার, ইন্টারনেট ফোন সার্ভিস, স্থানীয় মুদ্রায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুযোগে ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্টের তথ্য যতটা সম্ভব অস্বচ্ছ করার সুবিধা নিচ্ছে পেজ নির্মাতারা। এ ছাড়া দুর্বৃত্তরা থার্ড পার্টির সাহায্যও নিচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন ঘনিষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা সহযোগী গত বৃহস্পতিবার বলেন, নভেম্বরের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের বিস্তৃত প্রচেষ্টা করছে রাশিয়া ও অন্যরা। ২০২০ সালের নির্বাচন পর্যন্ত তারা এটা চালিয়ে যাবে। বিষয়টি তাদের উদ্বেগে ফেলেছে। কারণ, এটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াবে এবং তাদের রাগিয়ে দেবে।
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা এ ধরনের কর্মসূচির সঙ্গে সরাসরি রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা পাননি বলে জানিয়েছেন। তবে প্রচেষ্টার ধরন রাশিয়ার মতো বলে মনে করেন তাঁরা।

সোমবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৮

মহাকাশের প্রথম বিলাসবহুল হোটেল

এক দিনে ১৬ বার সূর্যোদয় দেখতে চান? মহাশূ
ন্যে ভেসে বেড়াতে চান? মহাশূন্যে থেকে পৃথিবীকে কেমন দেখায়, সে অভিজ্ঞতা নিতে চান? আর মাত্র চার বছর ধৈর্য ধরুন। গুছিয়ে ফেলুন ৭৮ কোটি ৮১ লাখ ২০ হাজার টাকা বা ৯৫ লাখ মার্কিন ডলার। এ টাকা খরচ হবে বিশ্বের প্রথম বিলাসবহুল মহাকাশ হোটেলে থাকা-খাওয়ার বিল হিসেবে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ হোটেল সম্পর্কে নানা তথ্য।
হোটেলের নাম ‘অরোরা স্টেশন’। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান হোসেতে অনুষ্ঠিত স্পেস ২.০ সম্মেলনে ওই মহাকাশ হোটেল তৈরির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ প্রযুক্তিবিষয়ক উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন স্প্যান ওই হোটেল তৈরি করবে। ১২ দিনের মহাকাশ সফরে এখানে দুজন ক্রু সদস্যসহ একসঙ্গে ছয়জন থাকতে পারবেন। ২০২২ সালে প্রথম অতিথি হিসেবে সেখানে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।
ওরিয়ন স্প্যানের প্রধান নির্বাহী ফ্র্যাঙ্ক বাংগার বলেন, সবার জন্য মহাকাশ ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্য তাঁদের। মহাকাশে হোটেল চালুর পরপরই কম খরচে সেখানে সবাইকে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে। দুই সপ্তাহের ভ্রমণে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার খরচের বিষয়টি অনেকের কল্পনা বাইরে। তবে ওরিয়ন স্প্যানের দাবি, সত্যিকারের মহাকাশচারীর অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে এতে।
বার্গনার বলেন, মহাকাশ স্টেশনে যেতে নভোচারীদের ২৪ মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু তাঁরা একে তিন মাসে নামিয়ে এনেছেন। ১২ দিনের এ রোমাঞ্চকর যাত্রা পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে ২০০ মাইল ওপরে লো আর্থ অরবিটে (এলইপি) উড়বেন। সেখান থেকে পৃথিবীর চমৎকার দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এ হোটেল পৃথিবীকে প্রতি ৩০ মিনিটে প্রদক্ষিণ করবে। অর্থাৎ হোটেলের অতিথিরা প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ১৬ বার সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখতে পাবেন। হোটেলে বসে অতিথিরা খাবার উৎপাদনের মতো গবেষণায় অংশ নিতে পারবেন। এসব খাবার তাঁরা উপহার হিসেবে পৃথিবীতে সঙ্গে নিতে পারবেন। উচ্চগতির ওয়্যারলেস ইন্টারনেট সিস্টেম থাকবে সেখানে। সরাসরি পৃথিবীতে লাইভ ভিডিও চ্যাট করা যাবে। এ ছাড়া পৃথিবীতে ফেরার পর তাঁদের বিশেষ সম্মান জানানো হবে। ভরশূন্য অনুভূতির মজা নেওয়া ছাড়াও অতিথিরা মুক্তভাবে হোটেলের ভেতর ভেসে থেকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরু প্রভার দৃশ্য দেখতে পাবেন।
যাঁরা এ সুযোগ হারাতে চান না, তাঁদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিতে শুরু করেছে ওরিয়ন স্প্যান। ৮০ হাজার ডলার দিয়ে আগাম বায়না করে রাখতে হবে। তবে পরে যদি কেউ পুরো অর্থ না দিতে পারেন, তবে ওই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
অবশ্য মহাকাশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দিতে ওরিয়ন স্প্যানের মতো আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে অ্যাক্সিওম স্পেস। টেক্সাসভিত্তিক ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের সাবেক এক ব্যবস্থাপক। ২০২৪ সালে একটি বাণিজ্যিক স্পেস স্টেশন চালু করবে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু তারা এখনো খরচের কথা প্রকাশ করেনি। তবে আগে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে মহাকাশ ভ্রমণ করা ডেনিস টিটোর চেয়ে তখন মহাকাশ ভ্রমণে খরচ কম হবে বলেই জানিয়েছে তারা। ২০১৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ভ্রমণকারীদের পৌঁছে দেবে এক্সিওম। পরে নিজেদের স্টেশনে যাত্রী নিয়ে যাবে।
এদিকে রিচার্ড ব্র্যানসনের ভার্জিন গ্যালাকটিক আড়াই লাখ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে ভরশূন্য অভিজ্ঞতা দিতে কাজ করছে। ২০০৯ সালে এটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনো প্রথম যাত্রা তারিখ ঠিক হয়নি।
অবশ্য মহাকাশ ভ্রমণে খরচ যা-ই হোক, যাত্রী খুব কম পাওয়া যাবে। তবে বার্গনার বলছেন, অরোরা স্টেশন শুধু হোটেল হিসেবে কাজ করবে না; এটি মহাশূন্যে ভরশূন্য অবস্থায় বিভিন্ন গবেষণা ও মহাশূন্যে কারিগরি কাজে মহাকাশ সংস্থাগুলোর জন্য কাজ করবে। বর্তমান বাজার চাহিদার কথা মাথায় রেখে আরও সুবিধা ওরিও স্প্যানে বাড়ানো যাবে বলেই জানান বার্গনার।